ছাড়ের পর দাম কীভাবে হিসাব করবেন
ছাড় (ডিসকাউন্ট) হলো আসল দাম থেকে বাদ দেওয়া একটি শতাংশ। ছাড়ের পর দাম পেতে দামকে ছাড়ের পর বাকি অংশ দিয়ে গুণ করুন:
উদাহরণ: ৳২,০০০ দামের একটি জামায় ২৫% ছাড় থাকলে দাম হবে 2,000 × 0.75 = ৳১,৫০০, অর্থাৎ ৳৫০০ সাশ্রয়। মনে মনে হিসাবের কৌশল: ১০% মানে দামের দশ ভাগের এক ভাগ (৳২০০), ২০% তার দ্বিগুণ (৳৪০০) আর ৫% তার অর্ধেক (৳১০০)।
দ্বিগুণ ছাড়: ২০% + ১০% মানে ৩০% নয়
ঈদ বা অন্য সেলে যখন আগে থেকে কমানো দামের ওপর “আরও ১০% ছাড়” দেওয়া হয়, তখন দ্বিতীয় ছাড়টি কমানো দামের ওপর হিসাব হয়। ছাড় যোগ হয় না, গুণ হয়:
৳১,০০০ দামের পণ্যে ২০% ছাড়ে ৳৮০০ এবং আরও ১০% ছাড়ে ৳৭২০ হয়। মোট ছাড় ২৮%, ৩০% নয়। একইভাবে ৫০% + ২০% মিলে মোট ৬০%, ৭০% নয়।
ছাড়ের শতাংশ কীভাবে বের করবেন
উদাহরণ: ৳২৫,০০০ দামের ফোন এখন ৳১৮,০০০ টাকায় পাওয়া গেলে ছাড় (25,000 − 18,000) ÷ 25,000 × 100 = ২৮%।
ছাড়ের আগের দাম কীভাবে বের করবেন
উদাহরণ: ৪০% ছাড়ের পর আপনি ৳৪৫০ দিয়েছেন, তাহলে আসল দাম ছিল 450 ÷ 0.6 = ৳৭৫০। ৳৪৫০ এর সঙ্গে ৪০% যোগ করা (৳৬৩০) ভুল হবে, কারণ ছাড়টি আসল দামের ওপর দেওয়া হয়েছিল।
সাধারণ অফার শতাংশে
- একটি কিনলে একটি ফ্রি = প্রতিটিতে ৫০% ছাড়, যদি দুটিই আপনার দরকার হয়।
- দ্বিতীয়টি অর্ধেক দামে = দুটির ওপর ২৫% ছাড়।
- দুটি কিনলে একটি ফ্রি = প্রতিটিতে ৩৩.৩% ছাড়।
- “৭০% পর্যন্ত ছাড়” সাধারণত অল্প কিছু পণ্যেই পুরোপুরি প্রযোজ্য।
অন্যান্য হিসাবের জন্য শতাংশ ক্যালকুলেটর দেখুন।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
২০% ছাড় কীভাবে হিসাব করব?
দামকে 0.8 দিয়ে গুণ করুন। ৳৬০০ দামে ২০% ছাড়ে 600 × 0.8 = ৳৪৮০ হয় এবং ৳১২০ সাশ্রয় হয়।
২০% ছাড় ও আরও ১০% ছাড় মিলে কি ৩০%?
না। অতিরিক্ত ১০% আগে থেকে কমানো দামের ওপর হিসাব হয়, তাই মোট ছাড় 1 − 0.8 × 0.9 = ২৮%। ৳১,০০০ এর পণ্যে আপনি ৳৭২০ দেবেন, ৳৭০০ নয়।
দুটি দাম থেকে ছাড়ের শতাংশ কীভাবে বের করব?
আসল দাম থেকে নতুন দাম বাদ দিন, আসল দাম দিয়ে ভাগ করুন এবং ১০০ দিয়ে গুণ করুন। ৳৫০০ থেকে ৳৩৫০ = (500 − 350) ÷ 500 × 100 = ৩০% ছাড়।
ছাড়ের আগের দাম কীভাবে জানব?
ছাড়ের পর দামকে (1 − ছাড়) দিয়ে ভাগ করুন। ৩০% ছাড়ের পর ৳৬৩০ দিলে আসল দাম ছিল 630 ÷ 0.7 = ৳৯০০।
ফলাফল দুই দশমিক ঘর পর্যন্ত পূর্ণসংখ্যায় আনা হয়েছে। দোকান ভিন্নভাবে হিসাব করতে পারে।